প্রতিক্রিয়া নয়, স্বাধীন কর্ম-১
১১ আগস্ট ২০২৪, ১২:০৩ এএম | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৪, ১২:০৩ এএম
হযরত হুযাইফা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন : তোমরা ‘ইম্মা‘আ’ হয়ো না এবং বলো না, ‘লোকেরা সদাচার করলে আমরা সদাচার করব আর লোকেরা জুলুম করলে আমরাও জুলুম করব’; বরং নিজেদের (এই নীতিতে) অভ্যস্ত কর যে, লোকেরা সদাচার করলে তোমরাও সদাচার করবে আর লোকেরা অসদাচার করলে তোমরা জুলুম থেকে বিরত থাকবে। (জামে তিরমিযী : ২০০৭)।
এই মোবারক হাদিসে রয়েছে অতি গুরুত্বপূর্ণ চারিত্রিক শিক্ষা। হাদিসের প্রথম বাক্য- ‘তোমরা ‘ইম্মা‘আ’ হয়ো না’ ‘ইম্মা‘আ’ কাকে বলে? আরবী ভাষায় ইম্মা‘আ হচ্ছে : ‘এমন পরানুকরণকারী লোক, যার নিজস্ব কোনো মত নেই, সংকল্পও নেই, কোনো ব্যাপারে স্থিতিও নেই।’ আরবী ভাষার বিখ্যাত অভিধান ‘লিসানুল আরবে’ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বাচনিক উদ্ধৃত করা হয়েছে যে : ‘জাহেলী যুগে আমরা ‘ইম্মা‘আ’ বলতাম ওই সকল লোককে, যারা বিনা নিমন্ত্রণে মানুষের পেছনে পেছনে দাওয়াতে গিয়ে হাজির হয়। আর এখন তোমাদের মধ্যে ‘ইম্মা‘আ’ হচ্ছে ওই সকল লোক, যারা দ্বীনের ক্ষেত্রে লোকের অনুকরণ করে।’
দ্বীনের ক্ষেত্রে পরানুকরণের অর্থ হচ্ছে, লোকেরা দ্বীনদারির পথে চললে সে-ও দ্বীনদারির পথে চলে আর লোকেরা বেদ্বীনীর দিকে গেলে সে-ও বেদ্বীনীতে লিপ্ত হয়। অন্য এক বর্ণনায় ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বক্তব্য পরিষ্কার ভাষায় এসেছে : সাবধান! কেউ যেন তার দ্বীন ও ঈমান অন্যের কাঁধে ন্যস্ত না করে যে, ও ঈমান আনলে এ-ও ঈমান আনে, ও কুফুর করলে এ-ও কুফুর করে। কারণ, মন্দের ক্ষেত্রে কেউ আদর্শ নয়। (আল ই‘তিসাম, শাতিবী ২/৩৫৯)।
তো ‘ইম্মা‘আ’ হচ্ছে এমন বিচার-বুদ্ধিহীন পরানুকরণকারী, যার কাছে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের কোনো মাপকাঠি নেই, লোকে যা করে সেও তা-ই করে। এটা মুমিনের শান নয়। মুমিনের আছে ন্যায়-অন্যায় ও করণীয়-বর্জনীয়ের নিজস্ব মাপকাঠি। তাই উপরোক্ত বাক্যে রাসূল (সা.) ঈমানদারদের ‘ইম্মা‘আ’ হতে নিষেধ করেছেন। জীবনের সকল ক্ষেত্রে, অর্থাৎ আকীদা-বিশ্বাস, ইবাদত-বন্দেগী, লেনদেন, সামাজিকতা, পর্ব-উৎসব, আচার-আচরণ, বেশ-ভূষা, স্বভাব-চরিত্র- সবক্ষেত্রেই মুমিনের কর্তব্য নিজ আদর্শের অনুসরণ। ইসলাম যেহেতু কামিল দ্বীন এবং এতে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা রয়েছে তাই জীবনের সকল অঙ্গন এই নবী-শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসের পরের অংশ : ‘এবং বলো না..., এতে পূর্বোক্ত নির্দেশনার ব্যাখ্যা ও ব্যবহারিক রূপ বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ ‘ইম্মা‘আ’ হওয়া মানে এই নীতি গ্রহণ করা যে, লোকে সদাচরণ করলে আমরাও সদাচরণ করব, আর লোকে জুলুম করলে আমরাও জুলুম করব। এ যার নীতি সে হচ্ছে ‘ইম্মা‘আ’- অপদার্থ পরানুকরণকারী। এটা মুমিনের নীতি হবে না। মুমিনের নীতি হবে, লোকে সদাচরণ করলে মুমিন সদাচরণ করে, আর লোকে অসদাচরণ করলে সে জুলুম থেকে বিরত থাকে।
তো মুমিনের কর্ম ও আচরণ আবর্তিত হয় ইনসাফ কিংবা ইহসান (অনুগ্রহ কিংবা ন্যায়বিচার) এ দু’য়ের মাঝে। তা কখনো জুলুমে নেমে আসে না। কারণ মুমিনের আচরণ নিছক প্রতিক্রিয়াবশত কিংবা অনুকরণবশত হতে পারে না, তা হয় নিজস্ব বিচার-বিবেচনা ও নিজ আদর্শ অনুসারে। ইসলামী আদর্শে তো জুলুমের অবকাশ নেই। পক্ষান্তরে যার কর্ম ও আচরণ নিজ বিচার-বিবেচনা ও নিজস্ব আদর্শের আলোকে নয়; বরং অন্যের অনুকরণ বা অন্যের আচরণের প্রতিক্রিয়াবশত হয়ে থাকে সে ভালো কাজও করে প্রতিক্রিয়াবশত, আর সে কারণেই তার আচরণ প্রায়শ ন্যায় ও যৌক্তিকতার গণ্ডি অতিক্রম করে।
ইসলামে আচরণগত শিক্ষার প্রথম সীমানাটি হচ্ছে ইনাসাফের। ভেতর-বাইরের উসকানীতেও ইনসাফের সীমানা লঙ্ঘন করা যাবে না। কুরআন মাজীদের ইরশাদ : আর দ্বিতীয় সীমানাটি হচ্ছে অন্যায়কারীর সাথেও অনুগ্রহের। যে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে তার সাথে সদাচার করো, যে বঞ্চিত করেছে তাকে দান করো, যে জুলুম করেছে তাকে ক্ষমা করো। (মুসনাদে আহমাদ : ১৭৪৫২)।
এক রেওয়ায়েতে আছে : যে তোমার সাথে অসদাচরণ করেছে তার প্রতি অনুগ্রহের আচরণ করো। এটা হচ্ছে আখলাকের উচ্চ পর্যায়। যার হিম্মত আছে তিনি এই পর্যায়ে উন্নীত হবেন। আর যার হিম্মত কম তিনি অন্তত দ্বিতীয় সীমানার ভেতর অবস্থান করবেন। এই সীমানাও অতিক্রম করে যাওয়ার অবকাশ নেই।
‘আলওয়াসিল’ ও ‘আলমুকাফি’। এক হাদিসে আল্লাহর রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন : ‘বিনিময় প্রদানকারী সম্পর্ক স্থাপনকারী নয়; সম্পর্ক স্থাপনকারী তো সে, যার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা হলে সম্পর্ক স্থাপন করে।’ (সহীহ বুখারী : ৫৯৯১)। এ হাদিসে আত্মীয়স্বজনের পক্ষ হতে অসদাচরণের ক্ষেত্রেও সদাচরণের উৎসাহ দেয়া হয়েছে এবং ‘সদাচরের বদলে সদাচার’ অপেক্ষা এই অবস্থানের শ্রেষ্ঠত্ব বয়ান করা হয়েছে।
বিভাগ : শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন
ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র বৈঠক, হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা থাকবে
রামু সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত
এক সপ্তাহে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ল ৬ কোটি ১০ লাখ ডলার
প্রবাসীদের যে জন্য সুখবর দিলো মালয়েশিয়া
জাবি শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, তদন্ত কমিটি গঠন, ফটকে তালা, মশাল মিছিল
মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
"নতুন সিনেমা নিয়ে ফিরছেন গ্লোবাল তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি"
ড. ইউনূসকে নিয়ে খালেদা জিয়ার পুরোনো যে বক্তব্য ভাইরাল
নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রতি ইসলামী আন্দোলনের শুভ কামনা
আলোচনায় ফ্যাসিস্ট হাসিনার ‘টুস করে ফেলে দেয়ার’ হুমকি
দীর্ঘ ১৫ বছর সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে পারেনি: খোকন
'ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে অভিনেতা তারিক আনাম খানের নাটক'
বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান
ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর বোর্ড অব গভর্নর সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীকে জমিয়াতুল মোদার্রেসীন ও দারুননাজাত মাদরাসা’র সম্বর্ধনা
সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীকে জমিয়াতুল মোদার্রেসীন ও দারুননাজাত মাদরাসা’র সংবর্ধনা
লালমোহনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত যুবদল নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
চকরিয়ার বিএনপি নেতা আবু তাহের চৌধুরীর মৃত্যুতে সালাহউদ্দিন আহমদ ও হাসিনা আহমদের শোক
উইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
বেইজিং সংস্কৃতি ও পর্যটন ব্যুরো ও আটাবের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সাক্ষাৎ