অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ এএম | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
জ্বালানি তেল, সার, মসুর ডালসহ ১৩ ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৬টি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ১টি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১টি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ১টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১টি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১টি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। জানা গেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে জিটুজি পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি তেল আমদানির শর্ত শিথিলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে নেগোসিয়েশনে সম্মত প্রিমিয়াম, পরিমাণ ও বর্তমান রেফারেন্স প্রাইস অনুযায়ী ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রস্তাবের মোট চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এতে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে রয়েছে চীনের ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি এবং চীনের পেট্রোচায়না। প্রস্তাবটি উত্থাপন করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মেয়াদে জি-টু-জি (সরকারের সঙ্গে সরকারের) প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল আমদানির এই অতিরিক্ত পরিমাণ অনুমোদিত কোটার ১০ শতাংশ।
অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সার আমদানির একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি), মরক্কো থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি, বিভিন্ন দেশ থেকে বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি এবং ২ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি সার রয়েছে। এসব সার কিনতে খরচ হবে ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা বা ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে এ মসুর ডাল কেনা হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রয়েছে টিসিবি। সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেডের কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৭৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।
বৈঠকে সউদী আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। আমদানির অর্থ কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।
জানা গেছে, সরকার ২০০৭ সাল থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় সউদী আরবের সাবিক থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন চুক্তির আওতায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বৈঠকে ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পের একটি নির্মাণকাজে ৬১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার ৫৭৩ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
প্রকল্পের আওতায় ‘ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর রিহ্যাবিলিটেশন অব ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক ফর এনআরডব্লিউ রিডাকশন (ইনক্লুডিং প্রকিউরমেন্ট অব প্ল্যান্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন অব ডিটিডব্লিউ পাম্প স্টেশন উইথ ওঅ্যান্ডএম সাপোর্ট) নির্মাণের পূর্তকাজের ভেরিয়েশন প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ওয়াসা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর চীনের প্রতিষ্ঠান চায়না ফার্স্ট মেটালার্জিক্যাল গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড-এর সঙ্গে ২২০ কোটি ৪৯ লাখ ৫২ হাজার ৪৩০ টাকায় কাজটির চুক্তি করা হয়।
কাজ চলমান অবস্থায় প্রকল্পের আওতায় কাজের পরিধি বা স্কোপ অব ওয়ার্ক বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হয়। এ কারণে ৬১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার ৫৭৩ টাকা ভেরিয়েশনসহ সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮২ কোটি ১৯ লাখ ৪৮ হাজার ৪ টাকা। অর্থাৎ মূল চুক্তিমূল্যের তুলনায় সংশোধিত চুক্তিমূল্য প্রায় ২৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি।
বৈঠকে যমুনা নদীর তীর রক্ষায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ১ হাজার ৬২৫ মিটার নদীতীর সংরক্ষণকাজে ১৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়নাধীন ‘যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১: নদীতীর সংরক্ষণ ও নদী শাসন (কম্পোনেন্ট-১)’ প্রকল্পের প্যাকেজ ডব্লিউডি-৩-এর আওতায় এ কাজ করা হবে। এতে সরকারের নিজস্ব অর্থের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের ঋণ অর্থায়ন রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় কালিহাতী উপজেলায় পার্মিয়েবল গ্রোয়েন ও টপ ব্লক পার্মিয়েবল গ্রোয়েন নির্মাণের মাধ্যমে ১ হাজার ৬২৫ মিটার নদীতীর রক্ষা করা হবে। এতে ছয়টি তিন সারি পাইলের গ্রোয়েন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে বৈঠকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন মাগুরা টেক্সটাইল মিল ও নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে। বিটিএমসির ১৬টি মিল পিপিপি মডেলে চালুর উদ্যোগের অংশ এটি।
মাগুরা টেক্সটাইল মিলটি ১৬ দশমিক ০৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত এটি চালু ছিল। ৩০ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে সম্পূর্ণ বিনিয়োগ করবে বেসরকারি অংশীদার ‘চর্কা টেক্সটাইল লিমিটেড’। চুক্তির আওতায় তারা এককালীন ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সাইনিং মানি, তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষে বার্ষিক ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা কন্ট্রাক্ট ফি, ৫০ লাখ টাকা ডেভেলপমেন্ট ফি এবং বিটিএমসিকে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করবে।
অন্যদিকে, ৩৭ দশমিক ৮৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি ১৯৮০ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। এটি চালুর জন্য ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড’-কে প্রেফার্ড বিডার হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। ৩০ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি এককালীন ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি, তিন বছর পর থেকে মাসিক ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা কন্ট্রাক্ট ফি, ৭৫ লাখ টাকা ডেভেলপমেন্ট ফি এবং ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দেবে। এসব প্রকল্পে সরকারের কোনো আর্থিক বিনিয়োগ থাকবে না, শুধু জমির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
বিভাগ : জাতীয়
মন্তব্য করুন
এই বিভাগের আরও
আরও পড়ুন
সরলথ-আলভারেজকে ছাড়াই ডার্বির আগে দুর্দান্ত প্রস্ততি আতলেতিকোর
মতিঝিলে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান
গণতন্ত্র পুনর্গঠনের আশ্বাস
গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় আরো দুই আসামির ৭ দিনের রিমান্ডে
পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলবে : শামা ওবায়েদ
এখনো বহাল চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত করতে কাজ করছে সরকার -প্রবাসী কল্যাণ সচিব
জুনায়েদ গুলজার চেয়ারম্যান শামসুল আলম মহাসচিব নির্বাচিত
আদালত অবমাননার অভিযোগে অ্যাডভোকেট তুষার ও হাসানকে তলব
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিট আপত্তি শূন্যে নামিয়ে আনার নির্দেশনা ইউজিসির
ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির স্থানীয় সরবরাহে ২৭০ দিনের সীমা নির্ধারণ
৫ দিন পর ক্লোজড ডিসি-ওসি
র্যাবের হাতে গ্রেফতাররা জড়িত নন, আসল দুজন গ্রেফতার : ডিবি
বন্ধুকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ৬ টুকরো
সিরাজগঞ্জে ভুয়া ডাক্তার মিঠুর ফের সাজা
বিশ্বনাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার
শেরপুরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানি
রাজশাহীতে অনুমোদনহীন খাবার পানি উৎপাদনকারীকে জরিমানা
অবশেষে দুই বছর পর কুষ্টিয়া কোর্ট রেল স্টেশনের সংস্কার শুরু সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে উঁচু ও প্রসারিত হচ্ছে প্ল্যাটফর্ম